কেএমপি’র গোয়েন্দা শাখার সদ্য বদলি হওয়া পুলিশ পরিদর্শক তৈমুর ইসলামের বিরুদ্ধে ডেভিল হান্ট বাণিজ্যের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অতি গোপনীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ হয়েছে। ১৬ মাস আগে টুটপাড়ার এক অধিবাসীকে পেন্ডিং মামলায় চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৪৫ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এবং অতি গোপনীয় প্রতিবেদনের সত্যতা প্রমাণ পাওয়ায় পুলিশ সদর দপ্তর তাকে ৮ জুন রংপুর রেঞ্জে বদলি করে। তিনি খুলনা নগরীর বাসিন্দা সরকারি আজম খান কমার্স কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে লেখাপড়া করতেন। স্থানীয় মানুষ হিসেবে রাজনীতিকদের সাথে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীনদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
পুলিশের সাবেক আইজিপি দুবাইয়ে গ্রেপ্তারকৃত বেনজির আহমেদের সাথে তার সখ্যতা ছিল। সাবেক আইজিপি দেশ ত্যাগ করার পর একটি সম্পত্তি আলোচিত পুলিশ পরিদর্শক বিক্রি করে দেন। কেএমপিতে গুঞ্জন ছিল সাবেক আইজিপি সম্পত্তিটি বেনামে তৈমুরের নামে ক্রয় করে।
কেএমপি’র অতি গোপনীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি দক্ষিণ টুটপাড়া ইস্ট সার্কুলার রোডের বরিশাল বাড়ির মালিক মোঃ তৌহিদুল ইসলাম তপুর বাড়ির গেট ভেঙে প্রবেশ করে দোতলায় গৃহস্বামী স্ত্রী ডালিয়ার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
আলোচিত এ পুলিশ পরিদর্শক স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্টে তাকে আটক করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় গৃহস্বামী লন্ডন প্রবাসী ও সম্মানী ব্যক্তি তার স্ত্রী স্বামীকে চালান না দেওয়ার জন্য পুলিশ পরিদর্শককে অনুরোধ করলে তিনি উৎকোচ দাবি করেন।
তাৎক্ষণিক ৪৫ হাজার টাকা দেওয়া হলে গৃহস্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্ত টিমের কাছে তপু জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। আসামি খুঁজতে এসে পুলিশ পরিদর্শক তার বাসায় উপস্থিত হন আসামির চেহারার সাথে গৃহ স্বামীর চেহারার মিল থাকায় তিনি তাকে আটক করেন। পরে পুলিশ পরিদর্শক অনুতপ্ত হয়ে বাসা ত্যাগ করেন। তার স্ত্রী ডালিয়া পারভীন অসুস্থ থাকায় তদন্ত টিমের সামনে আসতে পারেননি।
খুলনা গেজেট/এএজে

